সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সরকারি চাকরিতে গ্রেড কাঠামো ও কোটা ব্যবস্থাকে ‘অযৌক্তিক ও পেশার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ দাবি করে তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় একদল শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে কোটা ও বিদ্যমান কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে, তা প্রকৌশলী পেশার মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাঁদের অভিযোগ, ডিপ্লোমা পাস টেকনিশিয়ানরা ইঞ্জিনিয়ারদের সমমানের সুবিধা ও পদবি ব্যবহার করছেন, যা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ডিপ্লোমা পর্যায়ের পাস করা ব্যক্তিরা নিজেদের ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যা পেশাগত নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে প্রকৌশল পেশার স্বাতন্ত্র্য ও দক্ষতার মূল্যায়ন ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি।

বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ডিপ্লোমা পাস টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের সুযোগ-সুবিধা দখলের প্রবণতা বন্ধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সারা দেশে প্রকৌশল খাত অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো—
১. সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করা।
২. ডিপ্লোমা পর্যায়ে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার বন্ধ করা।
৩. উপসহকারী প্রকৌশলী পদে শুধুমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঠকের মন্তব্য